প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আলোচিত সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মতিউর রহমান তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে অন্তত ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজ নামে ও গোপনে মোট ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ১২০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
প্রথম মামলায় মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এই মামলার চার্জশিট ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় তার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীকে। তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনার ঘটনায় আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে দাবি করা হয়, তিনি মতিউর রহমানের সন্তান। সেখান থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের বিষয়টি।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে তার পরিবারের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পায় সংস্থাটি।
এছাড়া মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব জব্দ করা হয়।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
ডেস্ক রিপোর্ট