চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় সেপটিক ট্যাংক ও পুকুরে পড়ে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিনের বিভিন্ন সময়ে কর্ণফুলী, লোহাগাড়া ও মিরসরাই উপজেলায় এসব হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কর্ণফুলী উপজেলায় অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে হাবিবুল মোস্তফা (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার ক্রসিং এলাকায় হক কনভেনশন হলের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলার খোলা সেপটিক ট্যাংকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিবুল চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলায় খেলার সময় বাড়ির পাশে পুকুরে পড়ে আশিকুর রহমান (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বারেক চৌধুরী পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলছিল। একপর্যায়ে পরিবারের অগোচরে সে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর বিকেল ৫টার দিকে তাকে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, মিরসরাই উপজেলায় বিয়ে বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে মারা যায় আরাফাত হোসেন মাহিন (১০)। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাহিন করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম অলিনগর গ্রামের কাতারপ্রবাসী আক্তার হোসেন প্রকাশ মুক্তারের ছেলে এবং স্থানীয় পশ্চিম অলিনগর বিএমকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে মাহিন তার মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ে। এরপর থেকে মামার তত্ত্বাবধানে সে বড় হচ্ছিল। শিশুটির এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংক ও জলাশয়ের নিরাপত্তাহীনতাই এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
ডেস্ক রিপোর্ট