ডেস্ক রিপোর্ট | আন্তর্জাতিক
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আহত অনেক মানুষ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে চাইছেন না। বরং তাঁরা বাসাবাড়ি, পরিচিত চিকিৎসক কিংবা গোপন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর পেছনে রয়েছে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও নজরদারির আশঙ্কা।
বিক্ষোভে আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। আহত অবস্থায় সেখানে গেলে তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হয় এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই আহতদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় আহতদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনী শুধু রাস্তায় নয়, হাসপাতালেও তৎপর। ফলে গুলিবিদ্ধ বা মারাত্মক আহত বিক্ষোভকারীরা হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সহায়তায় আশ্রয় নিচ্ছেন নিরাপদ কোনো বাসায়।
অনেক চিকিৎসক নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে গোপনে আহতদের চিকিৎসা করছেন। কেউ কেউ বাড়িতে গিয়ে বুলেটের ক্ষত পরিষ্কার করছেন, আবার কারও শরীর থেকে গুলি বা ধাতব টুকরা বের করার চেষ্টা করছেন। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন—সব ক্ষত পুরোপুরি সারানো সম্ভব হচ্ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাজেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। যদিও সরকারি পক্ষ থেকে এসব তথ্য অস্বীকার বা সীমিত আকারে স্বীকার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না পারা আহত বিক্ষোভকারীদের জন্য বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করছে। চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেকের অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
ডেস্ক রিপোর্ট