ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাদারগঞ্জে নিঃশব্দ মৃত্যু জলাভূমির, বিপন্ন পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 2, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
জামালপুর প্রতিনিধি:আনিছুর রহমান আইয়ুব

একসময় মাদারগঞ্জ ছিল জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ জনপদ। খরকা বিল, চতলা বিল, চিড়াভিজা বিল ও বাঘাডোবা বিল ছিল দেশীয় মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। অথচ আজ এসব বিল প্রায় নিশ্চিহ্ন। নদীভাঙন, পলি জমা, অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও কৃষি সম্প্রসারণের চাপে একে একে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক জলাধারগুলো।

স্থানীয়দের কাছে খরকা বিল ছিল মাদারগঞ্জের পরিবেশের ‘ফুসফুস’। স্বচ্ছ পানির এই বিশাল জলাশয়ে একসময় চিতল, কালবাউশ, চাপিলা ও চিংড়িসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। শীতকালে হাজার হাজার অতিথি পাখির কলরবে মুখর থাকত এলাকা। কিন্তু ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা, ১৯৯০ সালের নদীভাঙন ও কচুরীপানার বিস্তারে বিলটির গভীরতা কমে গিয়ে ধীরে ধীরে এটি হারিয়ে যেতে শুরু করে।

চতলা বিল ছিল অতিথি পাখির অন্যতম অভয়ারণ্য। সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে আগত রাজহাঁস, বালিহাঁস, চোখা ও পেলিক্যানসহ নানা পাখির নিরাপদ আবাস ছিল এখানে। বর্তমানে নদীর পলি, ভূমি ভরাট ও দখলের কারণে এই বিলের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই।

চিড়াভিজা বিল ও বাঘাডোবা বিলও একই পরিণতির শিকার। একসময় যেখানে মাছ ধরা ও পাখির কোলাহল ছিল দৈনন্দিন দৃশ্য, সেখানে আজ ধানক্ষেত, বসতবাড়ি ও ইটভাটা দাঁড়িয়ে আছে।

জলাভূমি ধ্বংসের ফলে জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে মাদারগঞ্জ হারাবে তার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : ডেস্ক রিপোর্ট

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ